ব্যাক্তিত্ব

থমাস আলভা এডিসনঃ দ্যা ইনভেনশান ফ্যাক্টরি খ্যাত বিজ্ঞানীর ঘটনাবহুল জীবন। (পর্ব এক)

ব্যাক্তিত্ব বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ০২:১৬:৫৩

একবার এক বিজ্ঞানী বলেছিলেন-“ইশ্বর যদি আমাকে জন্মভূমি বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দিতেন, তবে আমি মঙ্গল গ্রহকেই বেছে নিতাম। কারণ মঙ্গল গ্রহের দিন পৃথিবীর চেয়েও চল্লিশ মিনিট বড়। অন্তত সেই সময়টা বেশি কাজ করে যেতে পারতাম”।  আরেকবার সেই একই বিজ্ঞানী বলেছিলেন- “প্রতিভা বলে কোনো জিনিস নেই।কোনো কাজ করার জন্যে একভাগ ইচ্ছে আর নিরানব্বই ভগ পরিশ্রম করার নামই হলো প্রতিভা”। আর এই কথা গুলো বলেছেন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী বিখ্যাত বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসন।

মার্কিন বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসন, বিদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক হিসেবেই সবাই একনামে চেনেন তাকে। কিন্তু উনার জীবনে মজার বেশ কয়েকটি কাহিনী রয়েছে তার আবিষ্কার নিয়ে। আজকের ফিচার তার ঘটনাবহুল জীবন ও নানান আবিষ্কারের গল্প।

অসম্ভব প্রতিভাবান এই থমাস আলভা এডিসন ১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও, মিলানে জন্ম গ্রহন করেন। হয়ে উঠেন একাধারে উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী এবং উদ্যোক্তা। তাঁর আবিষ্কারেই প্রথম আলোকিত হয়েছিল গোটা পৃথিবী। বৈদ্যুতিক বাতি, ফনোগ্রাফ, মাইক্রোফোন, ভিডিও ক্যামেরা, ফ্লুরোস্কোপসহ আরো হাজারো আবিষ্কারের জনক তিনি। প্রথম বাণিজ্যিক গবেষণামূলক পরীক্ষাগার নির্মাণের কৃতিত্বও তাঁর। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই তাঁর পেটেন্ট সংখ্যা হাজারের বেশি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স আর জার্মানিতেও আছে এডিসনের পেটেন্ট। ( পেটেন্ট বা কৃতিস্বত্ব হলো সরকার কর্তৃক একজন উদ্ভাবককে এক ধরনের অধিকার প্রদানের অনুমোদনপত্র, যে অধিকারবলে অন্য কোনও পক্ষ (সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য) তার উদ্ভাবনের প্রস্তুতি, ব্যবহার বা বিক্রয় করতে পারে না। উদ্ভাবনটি হতে পারে যেকোনো পণ্য, বা হতে পারে এমন কোন পদ্ধতি যা মানুষের কাজে আসে। একটি কৃতিস্বত্বের মাধ্যমে এর মালিক বা উদ্ভাবক তার উদ্ভাবনের জন্য সুরক্ষা লাভ করেন।)

এডিসন ছিলেন স্যামুয়েল অগডেন এডিসন (১৮০৪-১৮৯৬) ও ন্যন্সি ম্যাথিউস এলিয়টের (১৮১০-১৮৭১) সপ্তম এবং সর্বশেষ সন্তান। তাঁর পিতা ছিলেন ওলন্দাজ বংশোদ্ভুত। তাঁর পিতার আর্থিক সচ্ছলতার দরুন এডিসনের ছেলেবেলার দিনগুলো ছিল আনন্দদায়ক। সাত বছর বয়সে এডিসনের পিতা মিশিগানের অন্তর্গত পোর্ট হুরন নামে একটা শহরে এসে নতুন করে বসবাস শুরু করলেন। তাঁর পিতাকে কানাডা থেকে পালিয়ে যেতে হয় কারণ তিনি ম্যাকেনজি বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন।
অসম্ভব মেধার অধিকারী এডিসন স্কুলে ভর্তি হলেন। কিন্তু স্কুলের গন্ডিবাঁধা পড়াশুনা তাঁর নিকট একঘেঁয়েমি মনে হত। পড়াশুনায় কোনো মনোযোগ নেই, শিক্ষকদের অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হতেন। স্কুলের শিক্ষকরাও তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন না। রেভেরেন্ড অ্যাঙ্গল নামের এক শিক্ষককে একদিন পেছন হতে 'বোকা' বলেছিলেন এডিসন। এতে ভীষণ ক্ষেপে যান তিনি। ফলস্বরূপ তিন মাসেই স্কুলজীবনের সমাপ্তি ঘটে এডিসনের। আর কোনদিন স্কুলে যাননি এডিসন।

এডিসন ছোটবেলা থেকে পারিপার্শ্বিক যা কিছু আছে, যা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন এগুলো নিয়ে। বেশ কিছু মজার ঘটনার মধ্যে দিয়েই তার জীবন। একবার তিনি মুরগির মতো ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করতে পারেন কিনা তা দেখবার জন্য ঘরের এক কোণে ডিম সাজিয়ে বসে পড়লেন। এখন শুনতে হাস্যকর শোনালেও তিনি তাই করেছিলেন। এর কয়েক বছর পর তিনি বাড়িতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একটা ছোট ল্যাবরেটরি তৈরি করলেন। কিছুদিন যেতেই তিনি হাতে-কলমে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কিনে ফেললেন। এ সময় বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি স্থির করলেন নিজে কাজ করে অর্থ সংগ্রহ করে গবেষণার কাজ করবেন।

তেরো বছরের ছেলে কাজ করবে! তাঁর বাবা-মা দুজনে রীতিমত অবাক। ছোট এডিসনের জেদ চাকরি করবে। অগত্যা আর কি করা, বাবা-মা দুজনে রাজি হলেন। এডিসন অনেক খোঁজাখুঁজির পর খবরের কাগজ ফেরি করে বিক্রির কাজ পেলেন। আরো বেশকিছু আয় করার জন্য তিনি খবরের কাগজের সাথে চকলেট বাদামও রেখে দিতেন। এভাবে কয়েক মাসের মধ্যে বেশকিছু অর্থ সংগ্রহ করে ফেললেন এডিসন।

এ সময় এডিসন জানতে পেলেন একটি ছোট ছাপাখানা যন্ত্র কম দামে বিক্রি হবে। তিনি যে সামান্য অর্থ জমিয়েছিলেন তাই দিয়ে ছাপাখানার যন্ত্রপাতি কিনে ফেললেন। এবার নিজেই একটি পত্রিকা বের করলেন। একইসঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ করা, সম্পাদনা করা, ছাপানো, বিক্রি করা, সমস্ত কাজ একাই করতেন। অল্পদিনেই তাঁর কাগজের বিক্রির সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। লাভ হল একশো ডলার। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পনেরো।

 একদিন এডিসন রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ্য  করলেন, একটি ছেলে রেল লাইনের উপর খেলা করছে। দূরে একটি ওয়াগন এগিয়ে আসছে। অথচ ছোটছেলেটির সেদিকে নজর নেই। বিপদ আসন্ন বুঝতে পেরে হাতের কাগজ ফেলে দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন লাইনের উপর।  ছেলেটি ছিল স্টেশন মাস্টারের একমাত্র ছেলে। কৃতজ্ঞ স্টেশন মাস্টার যখন এডিসনকে পুরষ্কার দিতে চাইলেন, এডিসন সে সময় টেলিগ্রাফ শেখবার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। স্টেশন মাস্টার রাজি হলেন মহানন্দে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই এডিসন টেলিগ্রাফি শেখা রপ্ত করে নিলেন। এর সঙ্গে সাংকেতিক লিপি ও তার অর্থ বুঝতে সক্ষম হলেন।

অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এডিসন। একবার স্টাফোর্ড জংশনে রাত্রিবেলায় ট্রেন ছাড়ার সিগনাল দেওয়ার কাজ পেলেন। রাত জেগে কাজ করতে হত এবং দিনের বেলায় সামান্য কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিয়ে নিজের গবেষণার কাজ করতেন। এ সময় তিনি একটি ঘড়ি তৈরি করলেন যেটি আপনা থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে সিগনাল দিত। এর পরে বোস্টন শহরে কাজ করার সময় দেখলেন, অফিস জুড়ে ভীষণ ইঁদুরের উৎপাত। তিনি হঠাৎ করে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন যা সহজেই ইঁদুর ধ্বংস করতে সক্ষম।

 তিনি ১৮৬৯ সালে বোস্টনে চাকরিরত অবস্থায় একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যা দিয়ে ভোল্ট গণনা করা যায়। এই যন্ত্রের গুণাগুণ বিবেচনা করে উদ্ভাবক হিসেবে তাঁকে পেটেন্ট দেওয়া হল। আর এই পেটেন্ট এডিসনের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এরপর বোস্টন শহর ছেড়ে চলে এলেন নিউইয়র্কে। হাতে মোটেও পয়সা নেই। খাওয়া হয়নি দুদিন ধরে। এক টেলিগ্রাফ অপারেটরের সাথে পরিচয় ঘটল। সে এডিসনকে এক ডলার ধার দিয়ে গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানির ব্যাটারি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। সেখানে দুদিন কেটে গেল। তৃতীয় দিন তিনি খেয়াল করলেন ট্রান্সমিটারটি খারাপ হয়ে গিয়েছে। ম্যানেজারের অনুমতিক্রমে তিনি অল্পক্ষণের মধ্যেই ট্রান্সমিটারটি মেরামত করে ফেললেন। এর ফলে তিনি কারখানার ফোরম্যান হিসেবে চাকরি পেলেন। তাঁর মাইনে ছিল ৩০০ ডলার। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজের যোগ্যতা বলে ম্যানেজার পদে উন্নীত হলেন।

এই অর্থ দিয়ে তিনি নিজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে গবেষণার কাজে লাগাতেন। গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানি টেলিগ্রাফের জন্য এক ধরনের যন্ত্র তৈরি করতো,  যার ফিতের উপর সংবাদ লেখা হতো। এ সময় এডিসনের মনে হল বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে আরো উন্নত ধরনের যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব। এজন্যে প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন  পরীক্ষা-নিরীক্ষার। গবেষণার জন্য এ সময় চাকরিতে ইস্তফা দিলেন এডিসন। কয়েক মাস প্রচণ্ড পরিশ্রমের পর উদ্ভাবন করলেন এক নতুন যন্ত্র। এটি আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং সেই সঙ্গে এর উৎপাদন ব্যয়ও কম। তিনি এ যন্ত্রটি নিয়ে গেলেন গোল্ড ইনডিকেটর কোম্পানীর মালিকের নিকট। এতে মালিক খুশি হলেন। এডিসনকে জিজ্ঞাসা করলেন, কত দামে সে যন্ত্রটি বিক্রি করবে? এডিসন দ্বিধান্বিতভাবে বললেন, যদি পাঁচ হাজার ডলার দাম বেশি হয়, আবার তিন হাজার ডলার খুব কম হয় তবে কোম্পানী স্থির করুক তারা কি দামে যন্ত্রটি কিনবে। কোম্পানীর মালিক এডিসনকে চল্লিশ হাজার ডলার দিয়ে বললেন, আশা করি আপনাকে আমরা সন্তুষ্ট করতে পেরেছি। এডিসন তো হতবাক!
এই প্রচুর অর্থ বিজ্ঞানী এডিসনের জীবনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনে দিল। এতদিন তিনি অন্যের অধীনস্থ হয়ে কাজ করতেন। সেখানে তাঁর স্বাধীনতা ছিল না। এবার কয়েক মাসের চেষ্টায় নিউজার্সিতে তৈরি হল তাঁর কারখানা। তিনি সেখানে দিবারাত্রি কাজ করতেন। রাত্রে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিতেন। এ কারখানাটি ছিল প্রকৃতপক্ষে একটি গবেষণাগার। কয়েক বছরের মধ্যেই এডিসন প্রায় ১০০টির বেশি নতুন উদ্ভাবন করে তার পেটেন্ট নিলেন। এগুলি বিক্রি করে পেলেন প্রচুর অর্থ।

এডিসন এবার নিজের কারখানায় কাজ করতে করতে পুনরায় আকৃষ্ট হলেন টেলিগ্রাফির দিকে। অল্পদিনেই তৈরি হল ডুপ্লেক্স টেলিগ্রাফ পদ্ধতি। এর সাহায্যে দুটি বার্তা একই সাথে একই তারের মধ্যে দিয়ে দুই দিকে পাঠানো সম্ভব। এরপরে একই সময়ে একই তারের মধ্যে দিয়ে একাধিক বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম হলেন। আর এই পদ্ধতির সাহায্যে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার যে শুধু অসাধারণ উন্নতি হল তাই নয়, বরং খরচও কয়েকগুণ হ্রাস পেল।
তিনি ১৮৭৬ সালে তাঁর নতুন কারখানা স্থাপন করলেন মেনলো পার্কে। এখানে একদিকে তাঁর গবেষণাগার কাজ, অন্যদিকে কারখানা। এই মেনলো পার্কে বিজ্ঞানী এডিসনের প্রথম উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার টেলিফোন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল আবিষ্কার করেছিলেন টেলিফোন, কিন্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে বহুবিধ সমস্যা দেখা গিয়েছিল। এডিসন কয়েক মাসের চেষ্টায় তৈরি করলেন কার্বন ট্রান্সমিটার। আর এর সহায়তায় গ্রাহকদের প্রতিটি কথা স্পষ্ট এবং পরিষ্কারভাবে শোনা গেল। চতুর্দিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ল এডিসনের। এরপর তিনি দীর্ঘদিন মানুষের শ্রবণ যন্ত্র নিয়ে কাজ করেছেন।

 এবার তিনি স্থির করলেন ইলেকট্রিক কারেন্টকে কাজে লাগিয়ে আলো জ্বালাবেন। সে সময় এক ধরনের বৈদ্যুতিক আলো ছিল কিন্তু তা ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। প্রথমেই তিনি এমন একটি ধাতুর সন্ধান করেছিলেন যার মধ্যে কারেন্ট প্রবাহিত করলে উজ্জ্বল আলো বিকিরণ করে। তিনি বিভিন্ন রকমের ধাতু নিয়ে ১৬০০ রকমের পরীক্ষা করলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তৈরি করলেন কার্বন ফিলামেন্ট।
এডিসনের সব চেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী আবিষ্কার হল এই বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার। আকাশের বিদ্যুতকে মানুষ তখন ব্যাটারিতে আটকাতে পেরেছিল। তার পরও কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে তা থেকে আলো পাওয়া সম্ভব। এডিসন নিজ মেধা ও প্রচেষ্টায় সেই অলৌকিকতাকে বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন। ১৮৭৯ সালে অক্টোবর মাসে তিনি স্থানীয় পার্ক বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করে সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি শুধু বাল্বের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন।এরপর সমগ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে তৎপর হলেন।  তৈরি করলেন নতুন এক ধরনের ডাইনামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জেনারেটর থেকে শুরু করে ল্যাম্প তৈরি করা প্রভৃতি। নিউইয়র্কে প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র গড়ে উঠল যার অগ্রনায়ক ছিলেন বিজ্ঞানী এডিসন।

এবার এডিসন তাঁর বিখ্যাত মেনলো পার্ক ছেড়ে ওয়েস্ট অরেঞ্জে চলে এলেন। ১৮৪৭ সালের ঘটনা। এসময় তিনি শব্দের গতির মতো কীভাবে ছবির গতি আনা যায় তাই নিয়ে শুরু করলেন ব্যাপক গবেষণা। মাত্র দুবছরের মধ্যে উদ্ভাবন করলেন কিনেটোগ্রাফ, যা গতিশীল ছবি তোলবার জন্য প্রথম ক্যামেরা।  এডিসন আবিষ্কার করলেন কিনেটোফো যা সংযুক্ত করা হয় সিনেমার ক্যামেরার সাথে। এরই ফলে তৈরি হল সবাক চিত্র। এর মধ্যে দিয়ে আধুনিক যুগের সিনেমার আবিষ্কারকও করেছিলেন তিনি। ১৮৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল নিউইয়র্কে হাজার হাজার দর্শকের সামনে এডিসন তাঁর ‘কাইনেটোস্টোপ’ নামক যন্ত্রের সাহায্যে চলমান ছবি দেখিয়েছিলেন। শিল্প জগতে জন্ম দিয়েছেন নতুন একটি যুগের।

১৯২১ সালে তাঁর ৭৫ বছর পূর্ণ হয়। নিউইয়র্কের টাইমস পত্রিকা আমেরিকার মধ্যে সব চাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তি কে, তা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষা করে। ফলাফল অনুসারে দেখা যায় সব চাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তি থমাস আলভা এডিসন। ফ্রান্সে তাঁকে দেওয়া হয় ‘কমান্ডার অব লিজিয়ন অনার’ উপাধি, ইতালিতে তাকে ‘কাউন্ট’ উপাধি দেওয়া হয়। তাঁর নিজ দেশ আমেরিকায় তিনি দেশসেবার জন্য স্বর্ণপদক সহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন, ভূষিত হয়েছেন বহু সম্মানজনক উপাধিতে। সরকার এডিসনের ছবি ও তাঁর আবিষ্কৃত প্রথম বৈদ্যুতিক বালবের ছবি দিয়ে ডাকটিকিট বের করেছিল।

লেখকঃ এস এম সজীব