ব্যাক্তিত্ব

উইনস্টন চার্চিলের ৭ টি অজানা তথ্য

ব্যাক্তিত্ব বুধবার, ২৭ জুন ২০১৮ ০৭:৫২:০৯

উইনস্টন চার্চিল (৩০শে নভেম্বর, ১৮৭৪ – ২৪শে জানুয়ারি, ১৯৬৫) ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অধিক পরিচিত। চার্চিলকে যুক্তরাজ্য ও বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রথম জীবনে তিনি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সালে বিবিসির এক জরিপে তিনি সর্বকালের সেরা ব্রিটেনবাসী হিসেবে মনোনীত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল (১৯৪৩ সালে) সেজন্যে অনেকেই চার্চিলের নীতিকে দোষারোপ করে থাকেন। যে দুর্ভিক্ষে প্রায় তিরিশ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। চার্চিল শুধু রাজনীতিবিদ বা সুবক্তাই ছিলেননা তার লেখার প্রভূত সম্ভার ইংরেজি ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। সৈনিক জীবনেই তিনি যে রিপোর্টগুলি পাঠাতেন তা ছাপা হয় 'দি পাওনিয়র' ও 'ডেলি টেলিগ্রাফ' এ। আত্মজৈবনিক রচনার জন্যে সাহিত্যে নোবেল পান ১৯৫৩ তে। তার বৈচিত্র্যময় ও বিস্তৃত লেখার সম্ভারের মধ্যে একটিই মাত্র ছোটগল্প লেখেন। তার নাম 'ম্যান ওভারবোর্ড'।

তবে আজ কে মুলত আমরা উইনস্টন চার্চিল ৮ টি অজানা তথ্য আপনাদের জানাবো। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক উইনস্টন চার্চিল ৭ টি অজানা তথ্যঃ

(১) চার্চিল মুসলিম হতে চেয়েছিলেনঃ

ভারত ও সুদানে সেনাকর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চার্চিল ইসলামধর্ম ও প্রাচ্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেন। ১৮৯৬ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে বদলি হন চার্চিল। ১৮৯৮ সালে মিসরে বদলি হন এবং কিছুদিন পরই সেখান থেকে সুদানে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই শিল্প-সাহিত্য-ইতিহাস ও দর্শন বিষয়ে অনুরাগী চার্চিল এ সময়ে প্রাচ্যের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। গবেষক ড. ওয়ারেন ডকটার জানিয়েছেন, চার্চিলের পরিবার ও বন্ধুদের অনেকেই ইসলাম ও প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা জানতেন।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও নোবেলজয়ী সাহিত্যিক উইনস্টন চার্চিল হয়তো ইসলামধর্ম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। ইসলামধর্ম গ্রহণ না করতে অনুরোধ জানিয়ে ১৯০৭ সালে চার্চিলকে লেখা তাঁর এক হবু আত্মীয়ার চিঠিতে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস গবেষক ড. ওয়ারেন ডকটার চার্চিলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে সম্প্রতি এই চিঠি খুঁজে পেয়েছেন। ব্রিটেনের দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য সানডে টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।

(২)  চার্চিল হুইস্কি খাওয়ার প্রতি আসক্ত হয়েছিলেনঃ

উইনস্টন চার্চিল এর বিখ্যাত উক্তি ছিল, “খাওয়ার মাঝখানে মদ্যপ পানীয় পান পান করবো না এটাই আমার জীবনের নিয়ম করে নিয়েছিলাম”। তিনি ভারত ভ্রমণের আগ পর্যন্ত হুইস্কি অপছন্দ করতেন। তিনি ভারত ভ্রমণে এসে শিখেছিলেন কিভাবে সঠিক ভাবে হুইস্কি পান করতে হয়। এখানে তিনি জনি ওয়াকার হুইস্কি সোডার সাথে পান করতেন।

(৩)  ফ্যাশন সচেতন ছিলেন চার্চিলঃ

তিনি ছিলেন একজন ফ্যাশন সচেতন মানুষ, তিনি সময় নষ্ট করতেন না, তিনি ক্রিম স্যুপের পরিবর্তে স্বচ্ছ স্যুপ পছন্দ করতেন।

(৪) প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে চমকে দেয়ার কথাঃ

চার্চিল ছিলেন বিন্দাস ধরনের মানুষ, যা মনে আসতো তাই করতেন তিনি কোনো রকম সংকোচ ছাড়াই। একবার তিনি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের সামনেই হঠাৎ করে স্নানের তোয়ালে খুলে ফেলে বলেছিলেন, “লুকানোর কিছু নেই”। মজার মানুষ ছিলেন ও বটে।

(৫) 'মা' এর কাছ থেকে ধূমপান পরিহারের জন্য ঘুষ পেয়েছিলেন চার্চিলঃ

সন্তানের ধূমপান ত্যাগের জন্য মায়েদের চিন্তা সেই আগে থেকেই প্রচলিত কেননা ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর একটা জিনিস। ঠিক তেমনি চার্চিলের বয়স যখন ১৫ বছর তখন তাঁর মা ছেলেকে শর্ত দিয়েছিলেন, যদি চার্চিল আগামী ছয় মাস ধূমপান না করে থাকতে পারে তাহলে তাকে একটি বন্দুক ও একটি টাট্টু ঘোড়া উপহার দিবেন। তিনি এতে সফল হয়েছিলেন তবে সেটা সব সময়ের জন্য নয়।

(৬) মেয়ের জামাইকে পছন্দ করতেন না চার্চিলঃ

চার্চিলের মেয়ে সারা যে ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন তাকে তিনি দুচোখে দেখতে পারতেন না। একদিন দুজনে হাঁটতে বেরিয়েছেন। এ সময় মেয়ে জামাই প্রশ্ন করল, যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছেন এমন কেউ আছেন কি? চার্চিল প্রায় গর্জন করে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, একজন আছেন, মুসোলিনি। তিনিই একমাত্র লোক যে কিনা নিজের মেয়ে-জামাইকে গুলি করে মারার সাহস দেখিয়েছিলেন”।

(৭) চার্চিল পশুদের পছন্দ করতেন খুবঃ

অনেকেই ব্রিটিশ বুলডগকে চার্চিলের পছন্দের মনে করতেন। কিন্তু এই রাজনীতিবিদের পছন্দের ছিলো বিড়াল, বিশেষ করে জক নামের বিড়াল যার কমলা রঙের দেহে সাদা দাগ ছিলো। যার নামকরণ করা হয়েছিলো চার্চিলের ব্যক্তিগত সচিব স্যার জন জক কলভিল এর নামে।


এছাড়া ও তিনি সিনেমা দেখতে পছন্দ করতেন। পরিবারের সদস্য, মেহমান ও কর্মচারীদের নিয়ে নিয়মিত সিনেমা দেখতেন। তার পছন্দের চলচ্চিত্র ছিলো “দ্যাট হেমিল্টন ওমেন”। তিনি সঙ্গীত ও পছন্দ করতেন। ১৯৬৫ সালে ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ  করেন চার্চিল।